আজ (১০ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক অবিস্মরণীয় দিন।
দীর্ঘ ৮ মাস পাক হানাদার বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুরবাসী ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তির স্বাদ লাভ করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জয় বাংলা ধ্বনি আর গর্জনে গোপালপুর থানা শত্রু মুক্ত হয়।
স্বাধীনতার পথে গোপালপুরের প্রস্তুতি-
পাকিস্তানের ২৪ বছরের দুঃশাসন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির ক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ নেয় ২৫ মার্চের কাল রাতে।
দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে গোপালপুরের জনতাও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সংগঠিত হয়ে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে।
কাদেরিয়া বাহিনীর পরিকল্পিত আক্রমণ-
১৯৭১ সালের (৭ ডিসেম্বর) নিকরাইল রাণী দীনমনি স্কুলে কাদেরিয়া বাহিনীর ৭০ জন কমান্ডারের বৈঠকে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) গোপালপুর থানা আক্রমণের দায়িত্ব দেন কয়েকটি কোম্পানীকে।
এই নির্দেশ পান নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর, আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, আসাদুজ্জামান আরজু, বকুল, আব্দুল হাকিম, নূরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান আনিস ও খন্দকার হাবিবুর রহমান কোম্পানী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী (৯ ডিসেম্বর) আঙ্গুর কোম্পানী গরুহাটি এলাকা দিয়ে আরজু কোম্পানী কীর্তন খোলা দিক থেকে।
হাকিম কোম্পানী বৈরান নদীর পশ্চিম থেকে মর্টারসহ গোপালপুর থানায় এক যোগে আক্রমণ চালায়।
বিমান হামলায় পালিয়ে যায় পাকসেনা।
পরে (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর তিনটি মিগ ২১ গোপালপুর ও ঘাটাইল থানায় টানা বোমা বর্ষণ করলে পাকসেনা ও রাজাকাররা রাতের আঁধারে পালাতে শুরু করে।
বাইরে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা চার দিক ঘিরে তাদের প্রতিরোধ করেন।
প্রায় এক ঘণ্টার তুমুল গোলা-গুলির পর পাকবাহিনী সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে।
পরে (১০ ডিসেম্বর) বিজয়ের অগ্নিক্ষণ সকাল ১০ টার মধ্যে শত্রুসেনারা পুরোপুরি থানা ত্যাগ করে।
সকাল ১১টার দিকে আরজু কোম্পানীর চাঁদ মিঞার প্লাটুন জয় বাংলা ধ্বনি দিতে দিতে গোপালপুর থানায় প্রবেশ করে।
এরপর মুক্তিযোদ্ধারা থানা দখলে নেন এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

প্রথম দিকের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন- চাঁদ মিঞা, সাহেব আলী, শামছুল আলম, আব্দুল লতিফ, আজাহার আলী, কাদের তালুকদার, তোরাপ শিকদার, ইসমাইল হোসেন মৃধা, আব্দুস ছোবহান তুলাসহ আরও অনেক মুক্তি যোদ্ধারা।
পরে কমান্ডার আসাদুজ্জামান আরজু দলের সদস্যদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করলে এলাকাবাসীরা ছুটে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের কোলাকুলি করে অভিনন্দন জানান।
বিজয়ে পর গোপালপুর থানা দখলে- ২ জন পাকসেনা নিহত, ১৫ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ, ৩০০ রাজাকার আটক হয়।
এর মধ্যে ৭৫ জনকে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে পাক বাহিনীর ৮০ টিরও বেশি অস্ত্র।
এরপর নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুরের নেতৃত্বে থানায় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হয়।
অন্যদিকে, গোপালপুরের গর্ব (১০ ডিসেম্বর) এই দিনটির স্মৃতি শুধু গোপালপুর নয়, পুরো টাঙ্গাইল বাসীর জন্য এক গৌরবের ইতিহাস।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে গোপালপুর হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথমবারের মতো থানা প্রাঙ্গণে উড়তে থাকে।
দৈ/টা/প্র/অন্তু/(১০ ডিসেম্বর)।

ডেস্ক প্রবাহ 









